চরিত্র পরীক্ষা জাতক

পুরাকালে বারাণসী নগরে ব্রম্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন। সেই সময় বোধিসত্ত্ব এক ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহন করেছিলেন। বয়ঃপ্রাপ্তির পর তিনি বারাণসীতেই এক সুবিখ্যাত আচার্যের কাছে বিদ্যাশিক্ষা করেন। ঐ আচার্যের পাঁচশত শিষ্যের মধ্যে বোধিসত্ত্ব বিদ্যাবুদ্ধিতে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন।
ঐ আচার্যের এক প্রাপ্ত বয়স্কা কন্যা ছিল। আচার্য ঠিক করলেন, আমার এই শিষ্যগণের চরিত্র পরীক্ষা করে যাকে সর্বাপেক্ষা চরিত্রবান দেখব, তাকেই আমি কন্যা সম্প্রদান করব। তারপর একদিন আচার্য তাঁর শিষ্যদের ডেকে বললেন, বৎসগণ, আমার কন্যা এখন বিবাহ যোগ্য হয়েছে। তার এখন বিয়ে দিতে হবে। তার জন্য বস্ত্র ও অলঙ্কার দরকার। তোমরা এমনভাবে বস্ত্র ও অলঙ্কার অপহরণ করে আনবে যাতে তোমার আত্মীয়বন্ধুগণ দেখতে না পায়। পরের অগোচরে যা আনবে তাই আমি গ্রহন করব। অপহৃত বস্তু অপরে যদি দেখতে পায় তাহলে আমি গ্রহন করব না।
শিষ্যরা এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে আত্মীয়বন্ধুদের অগোচরে বস্ত্র ও অলঙ্কার অপহরণ করে এনে আচার্যকে দিতে লাগল। কিন্তু বোধিসত্ত্ব কিছুই আনলেন না।
তখন আচার্য একদিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস তুমি আমাকে কিছুই এনে দিলে না?
তখন বোধিসত্ত্ব বললেন, না গুরুদেব, আমি কিছুই আনতে পারি নি।
আচার্য জিজ্ঞাস করলেন, কেন আনতে পারনি?
বোধিসত্ত্ব উত্তর করলেন, আপনি বলেছেন, অপহৃত দ্রব্য অপরে দেখতে পেলে আপনি তা গ্রহন করবেন না।
তারপর একটি গাথার মাধ্যমে তিনি বললেন, অপহরণ হচ্ছে একটি পাপকর্ম। কোন পাপ কর্মের অনুষ্ঠান গোপনে হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। যারা মুর্খ্য তারাই বলে, আমি গোপনে এই পাপ করেছি। কারণ প্রাণী শূন্যস্থান কোথায় আছে? দৃশ্য বা অদৃশ্য কোন না কোন প্রাণী সর্বত্রই আছে।
বোধিসত্ত্বের কথা শূনে আচার্য অতীব সন্তুষ্ট হলেন। তিনি বললেন, আমার ঘরে ধগনের অভাব নেই। আমি আমার শিষ্যদের চরিত্র পরীক্ষা করার জন্যই এ কথা বলেছিলাম। এখন দেখছি, একমাত্র তুমিই চরিত্রবান শিষ্য এবং আমার কন্যা তোমার উপযুক্তা।
তারপর আচার্য বোধিসত্ত্বকেই কন্যা সম্প্রদান করলেন এবং অন্যান্য শিষ্যদের আনা সমস্ত বস্ত্র ও অলঙ্কার তাদের হাতে ফিরিয়ে দিলেন।

[সংগ্রহীত]
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য