সুচিকিৎসা -তারাপদ রায়

ডমরুর জ্বর হয়েছে, কম্প জ্বর। বেচু কবিরাজকে খবর দেওয়া হল। বেচু জাতে কৈবর্ত, আগে চাষ করত। এখন কবিরাজ হয়ে বিলক্ষণ পসার হয়েছে। বেচু এসে ডমরুর নাড়ি ধরে শ্লোক পড়তে লাগল,
“কম্প দিয়ে জ্বর আসে
কম্প দেয় নাড়ি।
ধড়ফড় করে রোগী
যায় যমবাড়ী।।”
নাড়ি পরীক্ষা করার পর বেচু ডমরুকে বিষবড়ি দিল। সামান্য বিষবড়ি নয়, একেবারে নতুন ওষুধ, সম্প্রতি সে নিজে মনগড়া করে প্রস্তুত করেছে।
ওষুধের কার্যকরিতা নিয়ে ডমরুর স্ত্রীর মনে যাতে কোনও সন্দেহ না থেকে সেই জন্য বেচু নিজেও দুটো বড়ি খেয়ে নিল।

বড়ি খাওয়ার তিন ঘন্টা পরে ওষুধের গুণ প্রকাশিত হল। ডমরুর চোখ লাল হয়ে উঠল, বুক ধড়ফড় করতে লাগল। প্রাণ যায় আর কি!
ডমরুর অবস্থা দেখে তাঁর বন্ধু আধকড়ি বেচুর খোঁজ করতে গেলেন। বেচু ঘরে ছিল না। অনেক খুঁজে দেখা গেল যে সে এক পানাপুকুরের জলে গা ডুবিয়ে বসে আছে। তারও চোখ দুটি জবাফুলের মতো লাল। পানাপুকুরের পচা পাঁক তুলে সে মাথায় দিচ্ছে।
আধকড়ি বেচুকে বললেন, ‘বেচু, তুমি ডমরুকে কী ওষুধ দিয়েছ? তোমার ওষুধ খেয়ে ডমরু মারা পড়তে বসেছে।’ মাথায় কাদা দিতে দিতে বাজখাঁই স্বরে বেচু বলল, ‘বড়ি খেয়ে আমিই বা কোন ভাল আছি।’

লেখাটি পাঠিয়েছেন: সুমন দাস
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য