শিশুশিক্ষা ১ -তারাপদ রায়

“একবার এক বিবাহবাসরে একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশাল হলঘরে একা একা তাকিয়া ঠেসান দিয়ে বসে থাকতে বেশ ভালই লাগছিল। কিন্তু বিপদ বাধাল একপাল শিশু। ... সাত-আট বছরের দল একটা। তারা চোর চোর খেলা আরম্ভ করল। প্রথমে বুঝতে পারিনি, খেলা আরম্ভ হওয়ার পরে ধরতে পারলাম আমাকেই তারা বুড়ি বানিয়েছে। একজন চোর আর বাকিরা চোরের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য বুড়ি ছুঁয়ে অর্থাৎ আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পরিত্রাণ পেতে লাগল। ফলে অনতিবিলম্বে আমাকে উঠে পড়তে হল, কিন্তু তাতে রক্ষা নেই, প্রথমে শিশুরা তাদের বুড়িকে চেপে ধরে আটকে রাখার চেষ্টা করল এবং তারপরেও যখন আমি গায়ের জোরে তাদের হাত ছাড়িয়ে বেরিয়ে এলাম, এক দঙ্গল ক্ষুদে শয়তান আমার চারিদিকে ঘুরে ঘুরে হাততালি দিয়ে ‘বুড়ি পালাল’ ‘বুড়ি পালাল’ বলে নাচতে লাগল। তখন বিয়েবাড়িতে লোকসমাগম শুরু হয়েছে; সুন্দরী রমণীরা এবং সুবেশ ভদ্রলোকেরা আমার এই কৌতুককর অবস্থা নিয়ে যথেষ্ট মজা পেলেন।

সেদিন সেই বিবাহবাসর থেকে কিছু না খেয়েই বাড়ি ফিরে এসেছিলাম, কারণ বেশিক্ষণ এ ভাবে থাকা সম্ভব ছিল না।”

[রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়]

লেখাটি পাঠিয়েছেন: সুমন দাস
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য