ছড়া: আজব বুড়ো

আজব বুড়ো মাথায় ছিল লম্বা চুলের বোঝা
আর এক কথা বলতে আমি ভুলেই গেছি ও যা!
গোঁফও ছিল, গোঁফও ছিল, গোঁফও ছিল তার--
বুড়ো নাকি মস্ত বড় গোঁফের সমঝদার!
গরমের দিন তাই তো বুড়ো গাছের তলায় গিয়ে
ঘুমিয়ে ছিল একা একা বালিশ মাথায় দিয়ে।
যখন গাছের ইঁদুর রাজা দেখতে পেল এসে,
তার গছেরই তলায় বুড়ো রইছে ঘুমে দেশে
তখন রাজা রেগেই আগুন বলব কী যে তার,
চুল ও গোঁফের সিউ বুড়োর করল পরিষ্কার।

ঘুম থেকে সে জাগলে পরে বুঝতে পারে তাই
মাথার চুলের বোঝা এবং গোঁফ যে তাহার নাই!
তখন বুড়ো ভাবতে থাকে হাত বুলিয়ে টাকে:
আমি কি সেই আজব বুড়ো সবাই চিনে যাকে?
ভুল হয়েছে ভুল হয়েছে ব্যাপরটা যে ভুল
আমি যদি আমিই হতাম থাকত গোঁফ চুল!
তাই তো বুড়ো আয়না দিয়ে দেখল গিয়ে বাড়ি;
বলল; আরে, সত্যি আমার ভুল গয়েছে ভারি।
আমি এখন এখন গাছের তলায় মূয়ে আছি তবে
এই যে এখন ভাবছি আমি-- অন্য কেহই হবে।
আচ্ছা তবে, আমি যদি আমিই হয়ে থাকি,
আমার ছোট নাতি ও নাতনিদেরকে ডাকি।
আমায় ওরা চিনবে জানি একটি বারই দেখে

কিন্তু নাতি ও নাতনি তার বলল দেখেই; এ কে?
টোকা মশাই কোত্থেকে হে- বাড়ি কোথায় টেকো?
আজব বুড়ো অবাক হয়ে বলল; আমায় দেখো,
আমি যে হে তোমাদেরই আজব বুড়ো দাদা,
তোমরা আমায় চিনলে না ভাই, করলে বোকা গাধা?
নাতি এবং নাতনিরা সব চেঁচিয়ে তাকে কয়;
তুমি মোদের দাদু হবে তাও কি কখন হয়?
মোদের দাদুর চুল আছে আর গোঁফ যে ইয়া বড়
তোমর মাথায় টাক পড়েছে- দেখতে কেমনতর?
পালাও তুমি দাদুর কাছে নইলে দেব বলে।
ভাবল বুড়ো: তাই যদি হয়, আমি কে তা হলে।

[--ফয়েজ আহমদ]
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য