বানর বউ ত্রিপুরা উপজাতির উপকথা

বহু বহু আগের কথা। ত্রিপুরার প্রত্যন্ত এক পাহাড়ি এলাকায় জুম চাষিদের একটি প্রাম ছিল। নারায়ণ নামে এক ব্যক্তি ওই গ্রামের মোড়র ছিলেন। সাত ছেলের পিতা নারায়ণ বৃদ্ধ হয়ে গেলেও তাঁর কোন ছেলেরই বিয়ে হয়নি। কম বয়সে তিনি ছেলেদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবেননি। কিন্তু বার্ধক্যের চাপে তাঁর যখন মনে হল, যে কোনও দিন তিনি মারা যেতে পারেন, সেই সময় এক দিন তিনি তাঁর সাত ছেলেকে ডেকে জানিয়ে দিলেন মৃত্যুর আগে তিনি সাত ছেলেরই বউ দেখে যেতে চান।

ছেলেদের বিয়ে তো দেবেন। কিন্তু পাত্রী খুঁজতে যাওয়ার মতো তাঁর শারীরিক অবস্থা নেই। তাই নারায়ণ ছেলেদের বলে দিলেন, ‘আমি যথেষ্ট বৃদ্ধ হয়েছি। তাতেই গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছেলেদের জন্য মেয়ে খোঁজা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।’ তাই ঠিক করেছি, ‘একই দিনে একই জায়গায় বসে সাত ছেলেন জন্যই কনে খুঁজব এক অভিনব পদ্ধতিতে। সেই বউ খোঁজার সময় গ্রামের পুরুষেরা হাজির থাকলেও কোনও মহিলা সেখানে থাকতে পারবেন না। এবং একটি তীরন্দাজির পরীক্ষার মাধ্যমে চলবে বউ খোঁজা। বৃদ্ধ তাঁর মনের কথা ছেলেদের জানিয়ে দিয়ে একটি দিন ও সময় নির্দিষ্ট করে দিলেন।’


নির্দিষ্ট দিনে নারায়ণের সাত ছেলেই হাজির হলেন তীর ধনুক নিয়ে। শুরু হলো অভিনব পদ্ধতিতে বউ খোজা। নারায়ণ তাঁর বড় ছেলেকে ডেকে সোজা আকাশের দিকে তীর ছুঁড়তে নির্দেশ দিলেন। বড় ছেলের ছোঁড়া তীর এক সময় গিয়ে পড়ল গ্রামেরই অন্য একটি পরিবারের ছাদে। সেই বাড়িতে ছিল তিনটি অবিবাহিত কন্যা। তাদেরই এক কন্যার সঙ্গে নারায়ণের বড় ছেলের বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। একইভাবে তিনি বাকি ছয় ছেলেকেও ডেকে তীর ছুঁড়তে বললেন। পরপর পাঁচ ছেলের তীর গ্রামের কারও না কারও বাড়িতে গিয়ে পড়ল। সেই সব বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে তাঁর ছেলের বিয়ের ঠিক হয়ে গেল।

ছোট ছেলের ছোঁড়া তীর কারও বাড়িতে গিয়ে না পড়ে তা পড়ল গ্রামের শেষ প্রান্তের একটি মরা গাছের উপরে। ব্যাপারটা দেখে সবাই বিস্মিত হলেন। বৃদ্ধ নারায়নবাবু ভয় পেয়ে গেলেন। তাঁর ছোট ছেলের বিয়ে দিতে হবে একটি মরা গাছের সঙ্গে? কিন্তু তিনি তাঁর মনের ভাব প্রকাশ না করে হাঁটা দিলেন মৃত গাছটির দিকে। ভাল করে দেখলেন গাছটি। তারপর উপস্থিত জনতাকে নির্দেশ দিলেন গাছটি শেকড় সুদ্ধ তুলে ফেলতে। মাটি খুঁড়ে শেকড় শুদ্ধ গাছটি তুলতেই গেল, গাছের গুঁড়ির নিচে একটি স্ত্রী বানর বাচ্চা বসে আছে। বৃদ্ধ নারায়ণ তখন নির্দেশ দিলেন, ছোট ছেলেকে বিয়ে করতে হবে এই বানরটিকে। তারপর যথারীতি হৈচৈ করে বৃদ্ধ সাত ছেলের বিয়ে দিয়ে দিলেন। বিয়ের পরেই তিনি ঘোষনা করলেন, যেহেতেু ছোট ছেলের বিয়ে কোন মানবীর সঙ্গে হয়নি তাই সে আর গ্রামে থাকতে পারবে না। ছোট ছেলেকে গ্রাম ছেড়ে যেতে হবে শুনে নারায়ণ বাবুর স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করলেন। কিন্তু কোনও লাভ হল না। তাই তিনি ঠিক করলেন, ছোট ছেলে এবং বানর বউ-এর সঙ্গে তিনিও গ্রাম ছেড়ে চলে যাবেন। মা, ছেলে চোখের জলে বিদায় নিল। যেহেতু স্ত্রী ও ছোট ছেলের সঙ্গে তার বানর বউকেও বিদায় দিতে হবে তাই নারায়ণ বাবু আর ঘর থেকে বের হলেন না। দুঃখে, ঘৃণায় তিনি আর বউ এর মুখই দেখতে রাজি নন।

বেশ কিছু দিন কেটে গেছে, ছয় ছেলে, ছেলের বউদের নিয়ে নারায়ণবাবুর বেশ কাটছিল। তিনি ছোট ছেলের খোঁজও নিতেন না। এক রাত্রে, নারায়ণবাবু স্বপ্ন দেখলেন আর বেশি দিন তাঁর মেয়াদ নেই। এই পৃথিবীতে তাঁকে যা ইচ্ছে তা যেন তিনি পূরণ করে নেন। সকালে উঠেই তিনি ছয় ছেলের কাছেই খবর পাঠালেন,তিনি তাদের কাছে কিছু ইচ্ছা প্রকাশ করতে চান। এত দিন ছোট ছেলের খোঁজ না নিলেও তাঁর ছোট ছেলে থাকার প্রায় ব্রাত্য। যদিও তাঁর ইচ্ছা প্রকাশের সময় সবাইকেই তিনি ডেকে নিলেন কাছে। তারপর তিনি জানিয়ে দিলেন ছয় ছেলের বৌদের হাতের সব চেয়ে ভাল রান্না খেতে ইচ্ছে হয়েছে তাঁর এবং তা পরের দিনেই ছেলেদের আনতে হবে। ছেলেরা ফিরে গিয়ে পিতার ইচ্ছার কথা জানাল তার স্ত্রীদের কাছে।

ছোট ছেলেও ফিরল বাড়িতে। তার মনে গভীর দুঃখ - পিতার ইচ্ছা পূরণ করা হবে না তার পক্ষে। কারণ, বানর স্ত্রীকে সে কী বলবে? মনের দুঃখে সে রাতে মা’র কাছে পিতার ইচ্ছার কথা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলল। সে বলল- ‘আমি এমনই হতভাগা যে পিতার ইচ্ছা পূরণ করতে পারব না।’

স্বামীর কথা তার বানর স্ত্রী শুনল আড়ালে থেকে। সে কাউকে কিছু বলল না। রাতে যখন তার স্বামী, শাশুড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে ,বানর বউ তখন বিছানা থেকে উঠে বানরের পোশাক খুলে রেখে অতীব সুন্দরী নারী রূপ ধরল এবং রান্ন করল। তার পর দুটি সুন্দর পাত্রে সেই রান্না ভরে তা স্বামীর বিছানার পাশে সাজিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। ভোরে নারায়ণবাবুর ছোট ছেলে ঘুম থেকে উঠেই দেখে তার বিছানার পাশে সুস্বাদু রান্না ভর্তি দুটি পাত্র রাখা আছে। পাত্র দুটি ঢাকা দেওয়া সুন্দর কাপড় দিয়ে। সে পাত্র দুটি নিয়ে সটান গ্রামের বাড়িতে পিতার সামনে হাজির হল।

সব ভাইরা সেখানে হাজির হতেই নারায়ণবাবু তাঁর পুত্রদের একে একে ডেকে তাদের স্ত্রীদের হাতের রান্না দিতে নির্দেশ দিলেন। সব শেষে ছোট ছেলের পালা। বৃদ্ধ নারায়ণবাবু তো ভাবছেন, ছোট বউতো মানুষ নয়, বানর, সে আর রান্না কী করবে। তবুও তিনি ছোট ছেলেকেও একই নির্দেশ দিলেন। ছোট ছেলে সুন্দর দুটি পাত্র পিতার সামনে খুলে ধরল। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা সুগন্ধে ভরে গেল। রান্নার ঘ্রাণে সবাই পুলকিত হয়ে উঠল। নারায়ণবাবু তা খেয়ে ঘোষণা করলেন, ছোট বউ-এর হাতের রান্না সবচেয়ে সুস্বাদু। খাওয়া শেষে বৃদ্ধ নারায়ণবাবু তাঁর পরের ইচ্ছা ঘোষণা করলেন। তাঁর ইচ্ছে, বৌমাদের হাতে তৈরী সুন্দর কাপড় পড়তে চান তিনি।

বিষ্ময়ে আর পুলকে দুলতে দুলতে নারায়ণবাবুর ছোট ছেলে তার নিজের বাড়িতে ফিরল। তারপর সবিস্তারে সে সমস্ত ঘটনা জানাল তার মাকে। সেই সঙ্গে সে জানাতে ভুলল না, তার পিতা চান, বৌমাদের হাতে তৈরী কাপড় পরতে। সেই সঙ্গে সে মার কাছে ভয়ে ভয়ে বলে ওঠে- ‘এবার তো রক্ষা হলো কিন্তু কী করে পিতার কাছে কাপড় পৌছে দেবো।’ সব শুনে তার মা বললেন- ‘ভয় নেই, ঈশ্বর রক্ষা করবেন।’

এবারও নারায়ণবাবুর ছোট ছেলে তার বানর বউকে কিছুই জানাল না কিন্তু তার বানর বউ সব বথাই শুনেছে। সে দিনও সে কাউকে কিছু বলল না।

রাতে তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়তে বানর বউ বিছানা থেকে উঠে সরাসরি পারি দিল স্বর্গে তার মা স্বর্গরাজ ইন্দ্রের স্ত্রীর কাছে। সেখানে গিয়ে বানর বউ তার মায়ের কাছ থেকে ছেলেবেলায় পরা কাপড়গুলি চেয়ে নিল। তারপর সেগুলি একটি মখমল মোড়া সুন্দর বাক্সে ভরে নিল। এবং ফিরে এল স্বামীর বিছানায়। রাত শেষ হওয়ার আগেই সে কাপড় ভরা বাক্সটি যথারীতি রেখে দিল স্বামীর বিছানার পাশে। ঘুম থেকে উঠে নারায়ণবাবুর ছোট ছেলে দেখতে পেল সুন্দর মখমলে মোড়া বাক্সটি। সেটি খুলতেই তার চোখে পড়ল, অনবদ্য কারুকার্য করা সুদীর্ঘ একটি কাপড় রয়েছে তার ভিতরে। কাউকে কিছু না জানিয়ে, নারায়ণবাবুর ছোট ছেলে পৌছে গেল পিতার কাছে। তার আগেই তার অন্য ভাইরা নিজেদের স্ত্রীর হাতে তৈরী শ্রেষ্ঠ কাপড়গুলি নিয়ে হাজির। নারায়ণবাবু রীতি মেনে তাঁর বড় ছেলেকে বললেন, ‘দাও তো দেখি, বড় বউমা আমার জন্য কি কাপড় বুনেছেন?’ একই ভাবে ছয় ছেলেও তাদের স্ত্রীদের হাতে বোনা কাপড় রাখল পিতার কাছে। ছ’ছেলের বউদের বোনা কাপড় দেখলেন নারায়ণবাবু। প্রায় কোনটিই তেমন ভাবে তাঁর মন কাড়তে পারেনি। তার উপর কাপড়গুলি সবই ছোট মাপের। সব শেষে যথারীতি সন্দিগ্ধ চিত্তে তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে নির্দেশ দিলেন, ছোট বউমার হাতের বোনা কাপড় দিতে। শুধু তিনিই নন, উপস্থিত সবার নজর তখন ছোট ছেলের দিকে। ছোট ধীরে ধীরে বাক্স খুলে পিতার সামনে মেলে ধরল কাপড়। নারায়ণ বাবু আনন্দে জড়িয়ে ধরলেন ছোট ছেলেকে। কারণ, কাপড়টি যে সুন্দর তাই নয় সেটি বেশ বড়ও। পর পর দুদিনের ঘটনা থেকে নারায়ণ বুঝতে পারলেন, তাঁর ছোট বউ-মা বানরের আকৃতির হলেও তিনি আসলে বানর নন। তিনি নিশ্চয় কোন দেবী। সব ছেলেদের তিনি জানিয়ে দিলেন আগামী বুধবার তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর সাথে দেখা করে যায়। তারপর তিনি ছোট ছেলেকে বললেন, ‘আমি ছোট বউ-মাকে দেখতে চাই। অনেকদিন ছোট বউ-মাকে দেখিনি। তাকে দেখতে উচ্ছে করছে। তুমি বাড়ি গিয়ে তাকে বল, আগামী বুধবার যেন সে এখানে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে।

ছোট ছেলে বাড়ি এসে সমস্ত ঘটনা তার স্ত্রী এবং মাকে জানাল। দিন কাটছে, নির্ধারিত বুধবার দিনের আগের রাতে ছোট ছেলে এবং তার মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন ‘বানর বউ’ স্বর্গে তার মায়ের কাছে পাড়ি দিল। মাকে গিয়ে বলল -‘আমার জাদু আংটি আমাকে দাও।’ সেই জাদু আংটি নিয়ে সে মর্তে স্বামীর ঘরে ফিরে এল। তারপর জাদু আংটিকে নির্দেশ দিল, তার কুঁড়ে ঘরটি রাজপ্রাসাদ বানানোর। মুহুর্তে কুঁড়ে ঘরটি পরিনত হলো রাজপ্রাসাদে। সেখানে বাড়ির প্রতিটি দরজায় মোতায়েন সহস্ত্র প্রহরী। এক হাতিশালে হাতি। ঘোড়াশালে ঘোড়া। এক দাসদাসী। তার নির্দেশে তার স্বামী জন্য এল সোনার পলঙ্ক। আর তার এবং শাশুড়ির জন্য রুপোর খাট। কাঠের খাট থেকে গুমন্ত স্বামীকে আর শাশুড়িকে শোয়ানো হল। তাদের জন্য নির্ধারিত পালঙ্কে। তারপর সে নিজের ‘বানর’ চামড়া খুলে অপরূপ সুন্দর নারীতে পরিনত হল। তার বানর চামড়া রাখল নিজের পালঙ্কের পাশে।

ওই রাতে হটাৎ নারায়ণবাবুর ছোট ছেলের ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলতেই সে আশ্চর্য হয়ে দেখল সে শুয়ে আছে একটি সোনার খাটে। তার পাশেই শুয়ে আছে অপরূপ সুন্দরী এক নারী। সে বুঝতে পারল, সুন্দরী আর কেউ না, তার বানর স্ত্রী। বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে কুঁড়ে ঘরের বদলে তার বিশাল প্রাসাদ। তার স্ত্রীর বিছানার পাশে পড়ে আছে বানরের চামড়া। সে আর কিছু দেখার আগেই বানরের চামড়াটি তুলে নিয়ে এল বাড়ির উঠানে। সেটি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিল। যাতে তার স্ত্রী আবার বানর রূপ ধরতে না পারে।

নির্ধারিত বুধবার নারায়ণবাবুর ছয় ছেলে তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে হাজির হল নারায়ণবাবুর সামনে। অনেকক্ষণ পরেও ছোট ছেলে তার তার স্ত্রী এল না। তখন নারায়ণবাবু গ্রামের কয়েকজনকে পাঠালেন ছোট ছেলের বাড়িতে, যাতে তারা ছোট ছেলে এবং তার বউকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। গ্রামের মোড়লের নির্দেশে তিন জন গেল পাশের গ্রামে, মোড়লের ছোট ছেলের বাড়িতে। সেখানে গিয়েই তো তাদের চোখ ছানাবাড়া। তারা দেখল, মোড়লের ছোট ছেলের স্স্ত্রী পাহারা রত রাজপ্রাসাদ, হাতি ঘোড়ার বিপুল বহর। তারা কাউকে কিছু না বলে ফিরে এল গ্রামে। গিয়ে মোড়লকে বলল- ‘তোমার ছোট বউ-মা সাধারন বানর নয়, সে রাজরানী।’ তার বাড়ির বর্ননাও করল সবিস্তারে।

প্রতিবেশীর কাছে থেকে সব শুনে নারায়ণবাবু নিজেই গেলেন, বিতাড়িত ছোট ছেলের বউ-এর কাছে। নারায়ণবাবু প্রসাদের কাছে পৌছতেই ছেলে তার ছেলের বউ বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁকে আন্তরিক অর্ভ্যথনা জানাল। সব দেখে শুনে নারায়ণবাবু তো বেজায় খুশি। বাড়ি ঢুকেই নারায়ণবাবু প্রথমেই ছোট বউ এর কাছে জানতে চাইলেন, তার বানর রূপের রহস্য কি?

ছোট বউ শ্বশুরকে প্রণাম করে বলল -‘ আমি দেবরাজ ইন্দ্রের কন্য। এক দিন আমার পিতা আমার উপর প্রচন্ড রেগে আমাকে বানর করে দেয়। পিতার অভিসম্পাত শোনার পরেই আমার মা অভিশাপ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন আমার পিতার কাছে। মায়ের অনুরোধে, পিতা বলেন, যতদিন পর্যন্ত না কোনও মানুষ আমাকে বিয়ে করছে তত দিন আমাকে বানর হয়েই থাকতে হবে। দীর্ঘদিন আমার ওই অবস্থার পর আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করেছে। তার পরেই আমি আবার মানবী রূপ ফিরে পেলাম।’

ছোট বউ-এর মুখে সব শুনে নারায়ণবাবু লজ্জিত হলেন। ছোট বউ-এর কাছে ক্ষমাও চাইলেন, এতদিন তার সঙ্গে ওই রকম ব্যবহার করার জন্য। তারপর ছেলে এবং বউ-এর অনুরোধে ছোট ছেলের বাড়িতে তাদের সঙ্গেই সুখে শান্তিতে থাকতে লাগলেন নারায়ণবাবু।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য