নীতিগল্প: শিকারী কুকুর

এক ব্যক্তির একটি অতি উত্তম শিকারী কুকুর ছিল। তিনি যখন শিকার করিতে যাইতেন, কুকুরটি সঙ্গে থাকিত। ঐ কুকুরের বিলক্ষণ বল ছিল; শিকারের সময়, কোনও জন্তুকে দেখাইয়া দিলে, সে সেই জন্তুর ঘাড়ে এমনভাবে কামড়াইয়া ধরিতো যে, উহা আর পলাইতে পারিত না। যতদিন তাহার শরীরে বল ছিল, সে, এই রূপে, আপন প্রভুর যথেষ্ট উপকার করিয়াছিল।

কালক্রমে, ঐ কুকুর, বৃদ্ধ হইয়া, অতিশয় দূর্বল হইয়া পড়িয়াছিল। এই সময়ে, তাহার প্রভু, একদিন, তাহাকে সঙ্গে লইয়া, শিকার করিতে গেলেন। এক শূকর, তাঁহার সম্মুখ হইতে দৌড়িয়া পালাইতে লাগিল। শিকারি ব্যক্তি ইঙ্গিত করিবা মাত্র, কুকুর, প্রাণপণে দৌড়িয়া গিয়া, শূকরের ঘাড়ে কামড়াইয়া ধরিল; কিন্তু, পূর্বের মত বল ছিল না, এজন্য, ধরিয়া রাখিতে পারিল না; শূকর আনায়াসে ছাড়াইয়া চলিয়া গেল।

শিকারি ব্যক্তি, ক্রোধে অন্ধ হইয়া, কুকুরকে তিরস্কার ও প্রহার করিতে আরম্ভ করিলেন। তখন কুকুর কহিল, মহাশয়! বিনা অপরাধে, আমায় তিরস্কার ও প্রহার করেন কেন। মনে করিয়া দেখুন, যতদিন আমার বল ছিল, প্রাণপণে, আপনার কত উপকার করিয়াছি; এক্ষণে বৃদ্ধ হইয়া, নিতান্ত দূর্বল ও অক্ষম হইয়া পড়িয়াছি বলিয়া, তিরস্কার ও প্রহার করা উচিত নহে।

উপদেশ: দূর্বল ও বৃদ্ধ ব্যক্তিকে প্রহার করা উচিৎ নহে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য